“খেলতে খেলতে’’ শিক্ষার্থীদেরকে হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখালো ম্যাসল্যাব
শেষ হলো মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার (ম্যাসল্যাব) আয়োজিত ব্যবহারিক বিজ্ঞান কর্মশালা "খেলতে খেলতে বিজ্ঞান" -এর ত্রয়োদশ পর্ব। মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। কর্মশালার সমাপনীতে সোমবার উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সকলের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুশতাক ইবনে আইয়ুব।
এ সময় তিনি সবার উদ্দেশ্যে বলেন, ”আগামী বিশ্বে সেই জাতিই বেশি উন্নত যারা জ্ঞানবিজ্ঞানে উন্নত। আর এ কাজে হাতে কলমে বিজ্ঞান চর্চার কোন বিকল্প নেই।“ এ সময় কর্মশালায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার পাশাপাশি সবাইকে বিজ্ঞানের উন্নতিতে অবদান রাখার জন্য অনুপ্রাণিত করেন ড. মুশতাক।

কর্মশালায় অংশ নিয়ে জীবনের প্রথমবারের মত কোন সায়েন্স ল্যাবে কাজ করা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রিভারভিউ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলের ছাত্রী তামান্না আক্তার ইমা জানায়, “ম্যাসল্যাবের এখানে হাতে-কলমে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়; বিশেষ করে মাইক্রোস্কোপের ব্যবহার শেখা- পরবর্তীতে আমাকে আমার স্কুল পাঠ্যক্রমে এগিয়ে রাখবে।”
পাঁচ দিন ধরে চলা কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে বিভিন্ন বস্তু পরিমাপ করতে শেখে। বর্তনী তৈরি করে রোধ নির্ণয় থেকে শুরু করে আলোর প্রতিফলন, প্রতিসরণ সম্পর্কে ধারণা নেয়। দ্রবণ প্রস্তুত করে নির্দেশকের সাহায্যে অম্ল-ক্ষার টাইট্রেশন করে। মাইক্রোস্কোপের ব্যবহার শিখে বিভিন্ন স্লাইড পর্যবেক্ষণ করে। নিজদের রক্তচাপ নির্ণয় করে। সরল এবং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি পেঁয়াজের শল্কপত্রের কোষ ও এর প্লাজমোলাইসিস পর্যবেক্ষণ করেছে সবাই। আরো ছিলো অভিস্রবণ পরীক্ষা, স্টেথোস্কোপ এবং স্ফ্যাগমোম্যানোমিটার ব্যবহার শেখা, আলোর বিভিন্ন পরীক্ষার সাথে রসায়নের বিভিন্ন তত্ত্বীয় ধারণা দেয়া এবং বিভিন্ন ব্যবহারিক সামগ্রীর সাথে পরিচয় করানো হয়।

এছাড়া স্ক্রু গজ, স্লাইড ক্যালিপার্স এবং স্পেরোমিটার এর সাহায্যে বিভিন্ন বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্ব, ব্যাসার্ধ ও বক্রতার ব্যাসার্ধ নির্নয় করে দেখানো হয়। এরপরে তাদেরকে আলাদা আলাদা গ্রুপে ভাগ করে বেশকিছু এক্সপেরিমেন্ট হাতে-কলমে করানো হয়। শেষ দিনে মূল্যায়ন পরীক্ষা শেষে সকলের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয়। মাসল্যাব স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞান গবেষণার প্রশিক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে।

এ কর্মশালা আয়োজন প্রসঙ্গে ম্যাসল্যাবের ল্যাব সুপারভাইজার ফারজানা আক্তার লিমা জানান, “প্রয়াত বাংলাদেশি বাংলাদেশি জিনতত্ত্ববিদ মাকসুদুল আলম এর নামে নামকরণ করা এই ল্যাব প্রতিষ্ঠার মুল উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচীর পাশাপাশি হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখার সুযোগ করে দেয়া। বিজ্ঞানে আগ্রহী সকলেই ম্যাসল্যাবের বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহন করতে পারে।“
এই কর্মশালা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম স্মরণে ক্যাম্প আয়োজন করার কথাও জানান লিমা।
২০১৮ সাল থেকে মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার (MASLab) প্রতিবছর ধারাবাহিক ভাবে কর্মশালাটি আয়োজন করে। এতোদিন তা ছিলো অনলাইনে। তবে এবার সুসজ্জিত সেলফ, বসার টেবিল, মাইক্রোস্কোপ, এসি সহ সবকিছু মিলিয়ে নতুন এক রূপে সাজানো হয়েছে ম্যাসল্যাব। এই কর্মশালাটি মূলত ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য, যেখানে তারা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হাতে-কলমে কাজ করতে পারে। বর্তমানে ল্যাবে ১২ জন শিক্ষার্থীর সেট-আপ থাকলেও সেই অনুপাতে ইকুয়েপমেন্ট রয়েছে অনেক কম। উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, সকলের সহোযোগিতায় খুব শীঘ্রই তারা এই সমস্যার সমাধান করে ল্যাবটিকে শিক্ষার্থীদের জন্য উম্মুক্ত রাখতে পারবেন।







